দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট, একইসঙ্গে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারেরও প্রথম বাজেট এটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে কয়েকটি ভোগ্যপণ্য, আমদানি পণ্য ও সেবাখাতে করভার বাড়ানো হয়েছে, যা বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাইসাইকেল ও তেল চালিত গাড়ি
বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে বাইসাইকেলের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১২০০ থেকে ১৬০০ সিসির ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।
সিগারেট ও বিদেশি খাদ্যপণ্য
নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবারসহ বিভিন্ন আমদানি করা খাদ্যপণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
ট্রান্সফরমার ও ওয়াশিং মেশিন
এক কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে ট্রান্সফরমারের দাম বাড়তে পারে।
হাউজহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে বিদেশি ওয়াশিং মেশিনের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
রড ও নির্মাণসামগ্রী
রড উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ খরচ বাড়তে পারে, ফলে রডের দামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদেশি মধু, সুপারি ও কাজুবাদাম
বিদেশি মধুর ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিট প্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারি আমদানিতেও শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে এ পণ্যের বাজারদর বাড়তে পারে।
এলপিজি সিলিন্ডার ও অন্যান্য পণ্য
কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, মোটর, জিপসাম বোর্ড, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, খেলনা ইত্যাদি পণ্যের শুল্ক ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে আমদানি নির্ভর পণ্য ও কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। তবে কিছু খাতে করছাড় থাকায় ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
এবারের বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ধরে রাখা।




