ভূমিমন্ত্রী মিনু যেখানে ব্যর্থ!

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬; সময়: ৫:৪৭ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সরকারের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের দাবি তুলে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে আলোচনায় আসা নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে শেষ পর্যন্ত তাঁর পদে ধরে রাখতে পারেননি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের অভিযোগে চলমান বিতর্কের মধ্যে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে কঠোর অবস্থান নেন মাহমুদা বেগম। এ কারণে তিনি একটি প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হন। একপর্যায়ে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে ভূমিমন্ত্রী মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই আদেশ স্থগিত করান বলে জানা গেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়নি। সম্প্রতি মাহমুদা বেগমকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। ফলে নরসিংদীতে চলমান ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এমন তো হওয়ার কথা না। এই সাহসী কর্মকর্তাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা মনোয়ার ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ৯ জুন পর্যন্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৫৯ কোটি টাকার চেক বিতরণে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে যোগদান করেন মাহমুদা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঘোষণা দেন, ভূমি অধিগ্রহণে নীতিমালার বাইরে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দালালচক্র ও সিন্ডিকেটনির্ভর অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন এলএ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) মামলার শুনানি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তিনি সরকারের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে তাঁর এই কঠোর অবস্থানই তাঁকে একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলে ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বদলিকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনসহ স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা চলছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন