রাজশাহীতে ঐতিহ্যবাহী দোকানের মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬; সময়: ১২:০৩ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত ‘রসগোল্লা’ গল্পে ভেনিস বন্দরের এক বিদেশি কর্মকর্তা রসগোল্লার স্বাদে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, একটি খেয়ে চোখ বন্ধ করে আবারও হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ নিয়ে অনেকটা তেমন অভিব্যক্তিই দেখা গেল বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের মুখে।

রাজশাহী সফরে এসে তিনি শহরের শতবর্ষের কাছাকাছি পুরোনো প্রতিষ্ঠান ‘রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এ গিয়ে একে একে প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা, মিষ্টি দই ও টকদইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন। মিষ্টির স্বাদে তার সন্তুষ্টির হাসি ও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে উপস্থিত সবার।

নিজের ফেসবুক পোস্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, “রাজশাহীর প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মনকাড়া সুগন্ধ আর মিষ্টির প্রলোভন সামলানো সত্যিই কঠিন।”

গত মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার ঢাকায় ফেরার আগে হঠাৎ করেই তিনি রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আগাম বার্তা পেয়ে দোকান কর্তৃপক্ষ তার আপ্যায়নের প্রস্তুতি নেয়।

রাজশাহীর সাহেববাজারে অবস্থিত ‘রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৬ সালে। ভারতের জয়পুরের মারওয়ারি ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ আগরওয়ালা এ দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর তিনি তার কর্মচারী কানাইলালের কাছে দোকানের দায়িত্ব হস্তান্তর করে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে মালিকানা পরিবর্তন হলেও ঐতিহ্যবাহী নামটি অপরিবর্তিত রয়েছে।

দোকানটির দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র পাল জানান, ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এখানে কাজ করছেন। খাঁটি ছানা, মাওয়া, পোস্তদানা, চিনি ও নলেন গুড় ব্যবহার করে মানসম্মত মিষ্টি তৈরির কারণেই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রদূতকে আমরা প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা ও দই পরিবেশন করি। তিনি সবকিছুর স্বাদ নিয়েছেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।”

গণেশ চন্দ্র পাল আরও জানান, ২০১৯ সালেও ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহী সফরে এসে এই দোকানের মিষ্টি খেয়েছিলেন। সেই স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখা ছবিও দেখেছেন বর্তমান রাষ্ট্রদূত।

বর্তমানে রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে প্রায় ২৪ ধরনের মিষ্টি ও সন্দেশ তৈরি হয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় মণ মিষ্টি বিক্রি হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেড় বছর আগে সাহেববাজারের মুড়িপট্টিতে নতুন একটি শাখাও চালু করা হয়েছে। দুই শাখা মিলিয়ে বর্তমানে ৪৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন।

মিষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ঐতিহ্য সকালের নাস্তা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে লুচি ও ডাল পরিবেশন করা হয়। মজার বিষয় হলো, সময়ের সঙ্গে লুচির দাম বাড়লেও ডাল এখনো বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে একটি লুচির দাম ছিল ১০ পয়সা, বর্তমানে সেটি ৬ টাকা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন