বেনজীর গ্রেপ্তারে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তিনি বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিংসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে এবং অন্যগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আসামিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার একটি নজির স্থাপন করেছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য এটি উদ্বেগজনক সংকেত।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। এই গ্রেপ্তারে একটি শুভ লক্ষণ হচ্ছে, আবুধাবি সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশকে খবরটি জানিয়েছে। তবে, এই গ্রেপ্তারের মানেই তিনি ফিরে আসছেন সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এর জন্য একটি লম্বা প্রক্রিয়া রয়েছে। বেনজীর যে অপরাধী তার সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিদেশে গ্রেপ্তারের পরে আবার মুক্তিও পেয়ে যায়।
দুদকের আইনজীবী মো. মাহমুদুল আরেফিন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দণ্ডিত বন্দিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেনজীর তো দণ্ডিত নন, এখন প্রশ্ন, তাহলে কী হবে? এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। এই চুক্তি কার্যকর তখনই হতো যদি বেনজীর আহমেদ দণ্ডিত হতেন। তিনি আরো জানান, যেহেতু বেনজীর ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, এখন ইন্টারপোলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে বসতে হবে।




