দুর্গাপুরে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, প্রশাসনে তোলপাড়

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬; সময়: ১০:৫৭ am | 
খবর > রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

৫ থেকে ৬ মিনিটের মিছিলে মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী অংশ নেয়। তবে তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, আয়োজনে- রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে দলটির নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিল করা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও যুক্তিতর্কের মধ্যেই মিছিলের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই মূলত ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

মিছিল বের করার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালানোর বিষয়টি দাবি করলেও বাস্তবে পুলিশ ঘটনাস্থলেই যাননি বলে স্থানীয়রা জানান। ওসির বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২১ জুন) কোনো এক সময় উপজেলার কানপাড়া-খড়খড়ি রাস্তায় ফলিয়ার বিল এলাকায় ফাকা জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে তাদের হাতে থাকা ব্যানারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার ছবি ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিলো। ব্যানারের নিম্নভাগে আয়োজনে- রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ লেখা ছিল।

এছাড়া ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন-০২’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগানসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার আহবান জানানো হয় ব্যানারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, অল্প বয়সী ১০ থেকে ১২ জন যুবক মোটরসাইকেল যোগে এসে ফলিয়ার বিলের মাঝে সেতুর কাছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যানার বের করে তাড়াহুড়ো করে ছবি তুলতে থাকে। এরপর ৫ থেকে ৬ মিনিট ব্যানার হাতে মিছিল বের করে দক্ষিণ দিকে চলে যেতে থাকে। তড়িঘড়ি মিছিল শেষ করে মোটরসাইকেল যোগে দিগবিদিক চলে যায়।

একজন ভ্যানচালক জানান, মিছিলে অংশ নেয়া যুবকদের সবার মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট ছিলো। ফলে তাদের চেনাজানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রোববার দিনগত রাতে ঝটিকা মিছিলের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মে নিজস্ব ওয়ালে এগুলো পোস্ট করা হয়েছে। এরপর থেকেই মূলত ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি জানাজানি ও আলোচনা শুরু হয়।

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ঝটিকা মিছিলের কথা শুনেছি। কারা এই ধরনের মিছিল করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু তাদের মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট ছিলো বিধায় তাদের প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তার থানা এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দল কিংবা কোনো নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও জানান ওসি পঞ্চনন্দ সরকার।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন