গোদাগাড়ীতে পরিত্যক্ত বিএমডিএর বোরহোলে পড়ে মহিষের মৃত্যু

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬; সময়: ৭:৫৩ pm | 
খবর > রাজশাহী

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর ও চার ফুট ব্যাসের সংকীর্ণ বোরহোল থেকে মহিষটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। টর্চলাইটের আলোতে মহিষটিকে দেখা গেলেও কোনো নড়াচড়া না থাকায় সেটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহিষটির মালিক বিকাশ খা খা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ের একজন কৃষক। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুটি মহিষ কিনেছিলেন। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মহিষ দিয়ে হালচাষ করেই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। দুটি মহিষের একটি হারিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা বলেন, বিকেলে মহিষটি দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ বোরহোলে পড়ে যায়। খবর পেয়ে তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে এসে মহিষটির অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে প্রাথমিক সেবা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের বড় সংসার। বাবা মহিষ দিয়ে হালচাষ করে সংসার চালান। এখন সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বোরহোল খনন করেন। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও বিপজ্জনক গর্তটি খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। তাদের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বিএমডিএ বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সব পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শাহানাপাড়া গ্রামের বোরহোলটি এখনো খোলা অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বাবু বলেন, কয়েকজন মিলে ওই স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খননের পর পানির স্তরও পাওয়া যায়। কিন্তু জমির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে নলকূপ স্থাপনের সম্ভাবনা থাকায় বোরহোলটি বন্ধ করা হয়নি।

মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন