টিআইএনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬; সময়: ৫:২৪ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের আগে করদাতাদের স্বস্তি দিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি ব্যক্তিগত আয়করের করমুক্ত সীমা বাড়ানো, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং কয়েকটি কর ও শুল্ক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত এসব দাবি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই আসে। তবে জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি নিজেই এসব প্রস্তাব তুলে ধরছেন।

করদাতাদের স্বস্তি দিতে তিনি প্রস্তাব করেন, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ টাকার পরিবর্তে সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হোক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধনে উৎসাহ দেওয়া এবং করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে এই বিধান আনা হলেও অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই তিনি বিধানটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে সেটিও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সুবিধার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন করতে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

তিনি পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বেতনের আয়ও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন।

চিংড়িশিল্পের উন্নয়ন ও রপ্তানি বাড়াতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করে তিনি বলেন, ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিট, রোল প্রোডাক্টের অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন