আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে দ্বিধায় বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নেতাদের ভিন্নমত; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬; সময়: ২:২৩ pm | 
খবর > রাজনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রশ্নে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করতে পারেনি বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে দেখা গেছে মতপার্থক্য। একাংশ মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে ব্যক্তি হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। অন্য অংশের মতে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পরে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।

কেন্দ্রীয় নেতাদের ভিন্নমত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূলের গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই ব্যক্তি পরিচয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর।

অন্যদিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনগত যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া সমীচীন হবে না।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যও একই সুরে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

তবে বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কিছুটা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তার মতে, নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই ব্যক্তি হিসেবে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এবং জনগণ গ্রহণ করলে বিএনপি বলপ্রয়োগ করে কারও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার পক্ষে নয়।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম বলেন, অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের আগে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও ক্ষমা চাওয়া উচিত। এরপর জনগণই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তৃণমূলে উদ্বেগ

বিএনপির তৃণমূল নেতাদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো এখনও মানুষের স্মৃতিতে তাজা। তাই বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ উপযুক্ত হবে না।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নয়

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে দলীয় অবস্থান জানানো হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের কাজও জোরদার করেছে। তবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রশ্নে দলটি এখনও পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন