আ.লীগ নেতাকর্মীদের মামলা রাজনৈতিক দেখিয়ে প্রত্যাহারের সুপারিশ এমপির

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬; সময়: ৫:১৪ pm | 
খবর > রাজনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদের প্যাডে দেওয়া তার একটি প্রত্যয়নপত্র ঘিরে বিএনপির ভেতরেই আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে একই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের করা আপিলের বিষয়ে ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকারসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। এতে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার অবস্থানের মধ্যে দৃশ্যমান ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩১ মে নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগে পরদিন ১ জুন রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্গাপুর উপজেলার নামুদরখালি সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা।

মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালত মামলার রায়ে প্রত্যেক আসামিকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেন। পরে তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন এবং এক মাস পর জামিন লাভ করেন।

গত মে মাসে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার ও সাজা মওকুফের আবেদন নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মে রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদের প্যাডে দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিরা বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং বাদী আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির কারণে মামলাটি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী ইয়াসির আরাফাত প্রিন্স বলেন, “এমপি মহোদয় সংসদে আছেন। পারিবারিক মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় সুপারিশ করার বিষয়টি আমার জানা নেই।”

এদিকে মামলার বাদী গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামিদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বা আমার পরিবারের কেউ কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আসামিরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে আমার কাছ থেকে চাঁদাও আদায় করেছিলেন।”

একই ঘটনায় দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন, যেখানে আসামিদের বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১৩ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, আসামিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় নেতাকর্মী।

বাদীর ওই আবেদনে সুপারিশ করেছেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মৃধাসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুপারিশ করেছি। যদি এমপি নজরুল ইসলাম দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে সুপারিশ করে থাকেন, তাহলে সেটি সঠিক কাজ হয়নি।”

তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র- যুগান্তর

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন