সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন হাসনাত?

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬; সময়: ২:১৮ pm | 
খবর > রাজনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য সংসদীয় রীতিনীতি, স্পিকারের রুলিং এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সমালোচকদের দাবি, বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন একটি বিষয় উত্থাপন করেন, যা আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যার পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেছিলেন, যার পক্ষে সংসদে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা উচিত নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের একটি বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, ২৫ জুন দেওয়া বক্তব্যে ওই রুলিং অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে আইনজীবীদের একাংশের দাবি, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৭০ নম্বর বিধিতে বিচারাধীন বিষয়, অনুপস্থিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য এবং অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁদের মতে, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিধান অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সমালোচকদের আরও দাবি, হাসনাত আবদুল্লাহ যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন, তা ২০২১ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলাটি পরবর্তী সময়ে আদালতে নিষ্পত্তি হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অব্যাহতি পান। তাদের মতে, আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়টি পুনরায় সংসদে আলোচনায় আনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ এখতিয়ার ও সীমারেখা মেনে চলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সহায়ক।

তবে হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন