হাইকোর্টের আদেশ অমান্যে করে রাজশাহীতে ভবন নির্মানের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬; সময়: ২:৫০ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও রেকর্ডভুক্ত জমিকে অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) হিসেবে দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন জমির দাবিদার মো. আব্দুল ওহাব।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজপাড়া থানার চণ্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল ওহাব এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল ওহাব দাবি করেন, তার মৃত মা রহিমা খাতুনের নামে চণ্ডিপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর-৯৮ এবং দাগ নম্বর-৬৭৮/৭৫৯ অনুযায়ী .১৫৩৭ একর বসতভিটা জমি রয়েছে। পরবর্তীতে আরএস জরিপেও (খতিয়ান নম্বর-৩৫২, দাগ নম্বর-৬৫২) জমিটি তার মায়ের নামেই রেকর্ডভুক্ত হয়। তিনি বলেন, এসএ কিংবা আরএস কোনো খতিয়ানের মন্তব্য কলামেই জমিটি অর্পিত সম্পত্তি বা অন্য কোনো সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ নেই।

তার অভিযোগ, ২০২০ সালের ২২ জুন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি ভিপি কেস (৪৮/৬৭, ১০/৮০-চণ্ডিপুর) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভাগীয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল ওহাব আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরবর্তীতে বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে খাজনা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিভিল ডিভিশনে মামলা (নং-৮৩০৭/২০২১) দায়ের করেন। তার দাবি, আদালত বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে খাজনা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে ২০২৩ সালের ৩১ মে তিনি জানতে পারেন, নালিশি জমিটি ইতোমধ্যে দুদকের নামে নামজারি (মামলা নং-৮৯৩৪/৯-১/২২-২৩) করা হয়েছে।

নিজের দাবি অনুযায়ী সম্পত্তি রক্ষায় তিনি পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নং-২০৬৪৮/২০২৫) দায়ের করেন। তিনি জানান, শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট জমির ওপর ছয় মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং বোয়ালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা গ্রহণ না করে অভিযোগ হিসেবে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন আব্দুল ওহাব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সর্বশেষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে জানানো হয় যে, জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন