জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ খামেনি

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে মাশহাদে দাফন; নিরাপত্তা ও চিকিৎসাজনিত কারণে জানাজায় ছিলেন না বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬; সময়: ১০:৫৫ am | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অবশেষে তার জন্মভূমি মাশহাদের মাটিতে দাফন করা হয়েছে। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারসংলগ্ন এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

১৯৩৯ সালে মাশহাদেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জীবনের শেষ অধ্যায়ও শেষ হলো সেই শহরেই, যেখানে লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তার শেষ বিদায়।

দাফন অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির মেজো ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় গুরুতর আহত হওয়ায় তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেও শোকানুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

এর আগে পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান। আহত হন মোজতবা খামেনি।

বৃহস্পতিবার মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে যখন খামেনির মরদেহ বহনকারী ট্রাক ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা ট্রাকের দুই পাশে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। কালো পোশাকে শোকাহত লাখো মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল ফলক হাতে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন খামেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র মোস্তফা খামেনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তার অপর দুই ছেলে মাসুদ ও মেইসাম খামেনি। তবে পুরো শোকানুষ্ঠানজুড়েই অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি।

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৭ বছর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন