টিকাবঞ্চিত শিশুরাই বেশি আক্রান্ত, থামছে না হামের সংক্রমণ

বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু; স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় কারণ বলে বিশেষজ্ঞদের মত

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬; সময়: ৪:১৬ pm | 
খবর > শীর্ষ সংবাদ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়া শিশু এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে এরপরও গত পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে ৭৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৭১ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ থাকা ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ১৪ হাজার ১০৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালালেই যথেষ্ট নয়। লক্ষ্যভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং টিকার কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী *ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকার ঘাটতির পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৭১ শতাংশ শেষ মুহূর্তে নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) সুবিধা পায়নি এবং ৮২ শতাংশ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে।

মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. এআরএম সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্তমানে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই টিকাবঞ্চিত। কেউ নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, আবার কেউ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ শিশু। ফলে প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা সংক্রমণ অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ প্রয়োজন। কিন্তু লক্ষ্য নির্ধারণ, মাইক্রোপ্ল্যানিং ও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতির কারণে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে। তিনি পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে হামে মৃত শিশুর সংখ্যা ৬৩ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, গত তিন মাসে রংপুর বিভাগে হামে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জনই শিশু।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন