সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনে রাজশাহী চেম্বার নেতারা, দ্রুত চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চাওয়া তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং নৌবন্দরের বর্তমান অবকাঠামো সরেজমিনে দেখতে রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তারা বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হাসেন আলী, সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন, সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক গোলাম সাকলাইন এবং আমদানি-রফতানিকারক আমিনুল ইসলাম।
পরিদর্শন শেষে আমদানি-রফতানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে দুবাই থেকে পাথর আমদানি করতে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ডলার ব্যয় হয়। এর সঙ্গে বড় জাহাজ ও কনটেইনার পরিবহনের অতিরিক্ত খরচও যুক্ত হয়। কিন্তু সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে ভারত থেকে পাথর আমদানিতে ব্যয় অর্ধেকেরও বেশি কমে আসবে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে।
তিনি বলেন, “এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নৌবন্দরের প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। মালামাল খালাসের পর সরাসরি ট্রাকে পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। বন্দরে প্রবেশের সড়কও ১৮ থেকে ২০ ফুট প্রশস্ত করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপরও কেন বন্দর চালুর অনুমোদন মিলছে না, সেটি এনবিআরই ভালো বলতে পারবে।”
রাজশাহী চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, “উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের বড় সংকট রয়েছে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল হবে। আমরা দ্রুত এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করে বন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেব।”
চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, “২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বন্দরটি উদ্বোধনের পর এনবিআর পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি লাইটার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। ওই পাঁচটি জাহাজ থেকেই প্রায় আট লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপর নানা অজুহাতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সব ধরনের অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও অনুমোদন মিলছে না। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।”
চেম্বারের সভাপতি হাসেন আলী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাট রফতানি করতে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে হয়। এতে শুধু ট্রাক ভাড়াই প্রায় ৫০ হাজার টাকা, পাশাপাশি বন্দরের অতিরিক্ত খরচও রয়েছে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।”
তিনি আরও বলেন, “এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা রাজশাহী চেম্বারের কাছে একটি প্রতিবেদন চেয়েছেন। সে কারণেই আমরা আজ সরেজমিনে বন্দর পরিদর্শন করেছি। খুব শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আমরা চাই দ্রুত এই নৌবন্দর চালু হোক।”
উল্লেখ্য, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। নৌপথটি চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালুসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বাংলাদেশে আমদানি করা যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে এসব পণ্য স্থলবন্দর, সড়ক ও রেলপথে আমদানি-রফতানি হওয়ায় সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি হয়। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যার সুফল পাবেন দেশের ব্যবসায়ীরা এবং সামগ্রিকভাবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।




