রাজশাহীতে তিন দিনে ২৪২২ শিক্ষার্থীর হৃদরোগ পরীক্ষা, শনাক্ত ৫৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে ২ হাজার ৪২২ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৫৬ জন শিশুর জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে দুজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চীনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীতে এ বিশেষ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতাল।
চীন থেকে ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের আট সদস্যের চিকিৎসক দল এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. হবিবুর রহমান জানান, রাজশাহীর ৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৩ হাজার ৪২০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪২২ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৬ জনের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত হয়।
তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, বেড ভাড়া এবং অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রোগীর চিকিৎসায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া একজন শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য চীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদরের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি চীনের আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সভাপতি মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আতাউল হক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. মো. রইছ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




