তারেক রহমানের হাতেই শুরু হচ্ছে ইতিবাচক পরিবর্তন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দেশকে গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে চাইছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৭ বছর নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফেরার পর থেকেই তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, যিনি প্রতিশোধমুখী রাজনীতিকে ভুলে ভবিষ্যত নির্দেশিত রাজনীতি গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির পরিবর্তে ‘ইতিবাচক রাজনীতি’ শুরু করবেন। দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তি, ঐক্য ও সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই তিনি ঘোষণা দেন, সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। শপথ গ্রহণের পর প্রথম সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমানো এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন যে, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি রোজায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি সরকারি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করবেন না; নিজের গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার করে চলাফেরা করবেন। গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।
সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। এছাড়া রাজধানীর প্রধান সড়কে পোশাকধারী পুলিশের অতিরিক্ত ব্যবস্থা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
প্রথম কর্মসূচিতে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “তারেক রহমান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সরকারি বিলাসিতা ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন। এটি বিএনপির ইতিহাসে এবং দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা। এই ধারা আগে শুধু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেখা যেত; এবার তার সন্তানও একই পথে এগোচ্ছেন।”




