ভারতে ‘জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার’ অভিযোগে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬; সময়: ২:০১ pm | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ভারতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ও বাংলাদেশভিত্তিক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এডিটিভি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে তামিল নাড়ুর ত্রিপুর জেলার একটি পোশাক কারখানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শহীদ ও মোহাম্মদ উজ্জ্বল। এছাড়া আরও দুজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্ত সূত্রের দাবি, সন্দেহভাজনরা ভুয়া আধার কার্ড ব্যবহার করে ভারতে অবস্থান করছিলেন। তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ডিভাইসের কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তামিল নাড়ু পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্দেহভাজনদের দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনায় সম্ভাব্য বোমা হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা এলাকা ও চাঁদনী চকের একটি মন্দিরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছিল। হামলায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এর একটি মসজিদে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা করা হতে পারে। ওই হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৬০ জনের বেশি আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এদিকে গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের প্রায় তিন মাস পর নতুন করে জঙ্গি হামলার এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি করল ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ওই বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও অন্তত দুই ডজন মানুষ আহত হন। রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি বিস্ফোরিত হলে আশপাশের কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।

তদন্তে জানা যায়, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক উমর মোহাম্মদ ওরফে উমর উন নবী ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এর আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ এলাকায় ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল।

তদন্তকারীরা চক্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য- ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল রাদারকে গ্রেপ্তার করে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জব্দ করার পর উমর মোহাম্মদ আতঙ্কিত হয়ে লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারতজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লি ও সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন