তানোরে বিল কুমারী বিলে হাঁসের খামার, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন খামারিদের

সাইদ সাজু, তানোর: রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিল কুমারী বিলের বাঁধ ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার। বিলের উন্মুক্ত জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্বল্প খরচে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় খামারিরা।
বাঁশের খুঁটি, তারকাঁটার বেড়া ও পলিথিন দিয়ে তৈরি এসব খামারে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাঁস ছেড়ে দেওয়া হয় বিলে। প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংগ্রহ করায় খাদ্য ব্যয় তুলনামূলক কম হচ্ছে। খামারগুলোতে উৎপাদিত ডিম স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্রি করা হচ্ছে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিল কুমারী বিলজুড়ে শত শত হাঁস দলবদ্ধভাবে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে। খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন হাঁসের দেখভাল ও ডিম সংগ্রহে। স্থানীয়দের মাঝেও এ উদ্যোগ নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।
খামারি মামুন ও লুৎফর জানান, তাদের বাড়ি তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায়। তারা যৌথভাবে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হাঁস পালন করছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০টি ডিম পাওয়া যায়। এসব ডিম স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়।
খামারি মামুন বলেন, “প্রতিদিন সকালে হাঁসগুলো বিলে ছেড়ে দিই। সারাদিন প্রাকৃতিকভাবে খাবার খেয়ে হাঁস বড় হয়। এতে খাদ্য খরচ অনেক কম লাগে। ডিম বিক্রি করে ভালো আয় হচ্ছে। দুইজন শ্রমিকের খরচ দিয়েও লাভ থাকে।”
অপর খামারি লুৎফর বলেন, “সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে আমরা আরও বড় পরিসরে হাঁস পালন করতে পারব। এতে এলাকার মানুষের মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”
স্থানীয়রা জানান, শিব নদীর অংশ হিসেবে পরিচিত বিল কুমারী বিল ও আশপাশের জলাবদ্ধ এলাকা হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন হাঁস খামারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, তানোরের বিস্তীর্ণ বিল ও জলাশয়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে হাঁস পালন সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ খাত।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “খামারিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন এ খাতে আগ্রহী হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁস পালন খামারিদের জন্য লাভজনক উদ্যোগ। সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে হাঁস শিল্প আরও বিকশিত হবে।”




