হিমাগারে আলুর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬; সময়: ১০:৫৭ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে পবা উপজেলার তকিপুর এলাকায় সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করে আসছেন। সে সময় বস্তাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে আলু সংরক্ষণ করা হতো। প্রতি বস্তা আলুর ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এর মধ্য থেকে আলু সংরক্ষণকারীরা বিভিন্ন হারে কমিশনও পেতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন একতরফাভাবে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়িয়ে প্রতি বস্তা ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ১৯ এপ্রিল হিমাগারের ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমিতির নেতারা জানান, রাজশাহী জেলায় মোট ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিটি হিমাগার থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার বস্তা আলু বের হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা- সব পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে রাজশাহীর আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ বলেন, “গত বছর ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিভিন্ন ছাড় দিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এখন আবার ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে তারা আলু উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন। তবে ভাড়া যৌক্তিক কারণেই বৃদ্ধি করা হয়েছিল।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন