রাজশাহীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলশিক্ষিকার ওপর হামলা

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬; সময়: ১১:০২ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকার বাজে কাজলায় গলিতে নির্মাণসামগ্রী (সুড়কি) ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার বিকেলে হামলায় আহত শিক্ষিকার নাম শিলা খাতুন। তিনি নগরীর খাদেমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

অভিযুক্ত হিসেবে রিপন আলী (৩২), তার বড় ভাই পারভেজ আলী স্বপন (৩৮), রিপনের স্ত্রী আফসানা মিমি (৩০), বেবী বেগম (৫০) এবং শিখা বেগমের (৩৩) নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।

শিলা খাতুন অভিযোগ করেন, তার বড় বোনের বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছিল। কাজের প্রয়োজনে গলিতে কিছু সুড়কি রাখা হয়েছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা তার বোনের ছেলের ওপর হামলার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পর রিকশাভাড়া দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং মাথায় আঘাত করা হয়। এছাড়া তার ব্যাগে থাকা টাকা ও হাতে থাকা একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

শিলা খাতুনের দাবি, হামলার পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে অতীতেও একাধিক সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছে। ২০২২ সালে বাড়ির নির্মাণকাজ চলাকালে হামলার ঘটনায় তার পায়ের আঙুল ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার এক আত্মীয়ের ওপর হামলার ঘটনায়ও মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রিপন আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষিকা থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, পক্ষগুলোর মধ্যে পূর্বের কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন