বর্ষা এলেই ভয়াল পায়রা, ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বর্ষার শুরুতেই ভয়াল রূপ ধারণ করেছে পটুয়াখালীর পায়রা নদী। তীব্র স্রোত ও অব্যাহত নদীভাঙনে জেলার মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলার নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ঝুঁকিতে রয়েছে গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। ফলে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পায়রা নদীর ভাঙন নতুন কোনো সমস্যা নয়। কয়েক দশক ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নদীর আগ্রাসনে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও ফলদ গাছ হারাচ্ছেন তারা। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা সরিয়েও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালী, সুন্দরা ও কালিকাপুর এবং দুমকি উপজেলার বাহেরচর ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়নে ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও নদীর পাড় ধসে বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকেরা বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করা জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়ছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত এলাকায় কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে পটুয়াখালী সার্কেলের আওতায় প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও ভাঙনের পরিস্থিতি গুরুতর হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মতে, সাময়িক সংস্কার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসনই পারে পায়রা নদীর ভয়াল ভাঙন থেকে উপকূলের মানুষকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর দ্রুত সংস্কার নিশ্চিত করা হলে প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।




