একুশে টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তেবাড়িয়ায় ৬ মাতব্বর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৩; সময়: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ |
একুশে টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তেবাড়িয়ায় ৬ মাতব্বর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : একুশে টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামে ৪ কৃষক পরিবারকে একঘরে করে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৬ মাতব্বরকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এরা হলো একই গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর আজম আলী (৭০), ছেলে ফরিদ আলী (৪৫), মোঃ ছামাদ মাষ্টার (৬৫), ফরহাদ আলী (৪০), জিল্লুর রহমান (৪৫), গফুর ফকির (৫০)। তাদের শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলার সর্ব পশ্চিমের শেষ সীমানার চলনবিলাঞ্চলের কৃষি নির্ভর তেবাড়িয়া গ্রামে মৃত শীতল প্রামানিমের ৪ ছেলে মৃত খোরশেদ আলম, শহিদুল ইসলাম, মোতালেব, করিম প্রামানিকের ৮৬৬ শতক জমি দীর্ঘ দিন করে প্রতিবেশী প্রভাবশালী জিন্নাহ সরকার সহ গ্রাম্য মাতব্বরা দখল করে চাষাবাদ করছে। এ নিয়ে গত ৩০ ফেব্রুয়ারী আদালতে মামলা করায় গত ১৮ মার্চ দখলদার গ্রাম্য মাতব্বররা শালীস বসিয়ে ২লাখ টাকা জরিমানা করে। তা না মানায় অসহায় কৃষকদের একঘরে করে দেয়। এরপর থেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পরিবারের নারী-শিশু, বৃদ্ধ ৩৮ জনকে বাড়ির হাটবাজারে যেতে দেয়নি।

কথা বলা তো দুরের কথা, আবাদ ও দোকানে কেনাকাটা বন্ধ। এবংকি মুমূর্ষ শিশুর ওষুধ কিনতেও বাধা দিয়েছিল। এছাড়া পরিবারের ৮ জন কর্মক্ষম সদস্যকে বাড়ি ফিরতে পর্যন্ত দিচ্ছেনা মাতব্বররা। গত ৭ দিন ধরে চলা এমন অমানবিক নির্যাতন নিয়ে গত শনিবার একুশে টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচার হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। শনিবার রাতেই থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দুর্গম তেবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঐ ৬ মাতব্বরকে আটক করে। তখন পুলিশ তাদের বন্দি দশা হতে মুক্ত করে ও অবাদে চলা ফেরার নির্দেশ দেয়।

রবিবার দুপুরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় বিরুদ্ধে মামলা। গ্রাম্য মাতব্বরদের চাপিয়ে দেয়া মধ্যযুগীও অবিচার একঘরে রাখার প্রভাব থেকে মুক্ত করায় অসহায় পরিবার গুলো থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন সহ একুশে টেলিভিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে