সিজার শেষে পেটে টিস্যু-ক্লিপ রেখে সেলাই, রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৩; সময়: ২:৩৭ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ফরিদপুরের মধুখালীতে সুমি প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড়, টিস্যু ও ক্লিপ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এত ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ১৩ এপ্রিল উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রত্না বেগম পেটে ব্যথা নিয়ে মধুখালী উপজেলা সদরের সুমি প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে ডাক্তার দেখাতে যান। একপর্যায়ে ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী সুমি আক্তার রোগীকে সিজারের পরামর্শ দেন। পরে ওই রাতেই তার অপারেশন করেন মাগুরা থেকে আসা ডাক্তার মাসুদুল হক।

এদিকে সিজারের ১০ দিন পর আবারও ওই রোগীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গত ২৪ এপ্রিল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

প্রসূতি রত্না বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ১৩ এপ্রিল মধুখালীর সুমি প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে আমার স্ত্রীর সিজার করানো হয়। তখন আমার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এরপরই বাচ্চা অসুস্থ হওয়ায় তাকে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তারা আমার স্ত্রীকে সেলাই করে বেডে পাঠিয়ে দেন। কয়েকদিন পরে আমার স্ত্রীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই।

তিনি আরও বলেন, ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিজারের সেলাই ভালোভাবে হয়নি বলে জানান। ডাক্তার আরও বলেন, সুতো মিলেনি, ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। পরে ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেলের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত দেওয়া হবে, রোগী ততক্ষণই বাঁচবে। আমি তখন ডাক্তারের কাছে সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন, এই রোগীর যে সিজার করেছে সে ডাক্তার নাকি কশাই? সেলাই ভালো হয়নি, ফুটো রয়েছে। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে অপারেশন করা হলে দেখা যায়, ভেতরে তুলা, গজ কাপড় ও একটা ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া বাচ্চার নাড়িও সঠিকভাবে কাটা হয়নি, ভেতরে রয়েগেছে। এতে পেটের ভেতর পচে দুর্গন্ধ আর ইনফেকশন হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

রোগীর স্বজন হাসান বলেন, ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা জানান, পেটের মধ্যে গজ, তুলা ও ক্লিপ পাওয়া গেছে। এগুলো পেটের মধ্যে রেখেই সেলাই করা হয়েছে।

রত্না বেগমের চাচাতো ভাই সাজ্জাত মোল্লা বলেন, সিজারের পর পেটের মধ্যে গজ কাপড়, টিস্যু, তুলা ও ক্লিপ রেখেই সেলাই করা হয়েছে। এতে পেটের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ক্লিনিক, ডাক্তারের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার জন্য রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী সুমি আক্তার বলেন, আমাদের ক্লিনিকে ওই রোগীর সিজার করেছেন ডা. মাসুদুল হক। সিজারের পরেও রোগী ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় চার দিন পর বাড়িতে ফিরে যান। এরপর রোগী ও তার স্বজনরা আমাদের কাছে আসেননি এবং কিছুই জানাননি। এমনকি রোগীর মৃত্যুর পরও আমাদের কিছু জানাননি। তবে লোক মারফত জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন।

রত্না বেগমের সিজারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ডা. মাসুদুল হক। তিনি বলেন, গত দেড় বছর মধুখালীতে যাওয়া হয়না, আমি কীভাবে সিজার করবো।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন