৫ জেলা নিয়ে বগুড়ায় গঠিত হচ্ছে স্বতন্ত্র সড়ক জোন

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর, গতিশীল ও বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বগুড়ায় একটি স্বতন্ত্র সড়ক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ-এই পাঁচটি সড়ক বিভাগ নিয়ে নতুন এ জোন গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে নিকারের ১২১তম সভা। সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পুনর্গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে নওগাঁ সড়ক সার্কেল গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় আনা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলার সড়ক বিভাগগুলো নিয়ে বগুড়ায় একটি স্বতন্ত্র সড়ক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি নওগাঁকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক সড়ক সার্কেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের মহাসড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত, কার্যকর ও বিকেন্দ্রীকৃতভাবে পরিচালনার স্বার্থেই এ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিকারের সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক সীমানা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৬টি মৌজাকে ঢাকা জেলার আওতায় এনে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভার কার্যপত্র ইতোমধ্যে সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।




