চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক দল নেতা

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬; সময়: ১২:১২ am | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানুর রহমান নামে ওই ব্যবসায়ী পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেড়া পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন। এ নিয়ে তার কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিপন সরদারের নেতৃত্বে কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পরে মিজানুর রহমানকে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং হাত-পা ভেঙে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তাদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সে সময় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অভিযুক্তরা মুচলেকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করলেও সম্প্রতি আবার চাঁদার দাবি শুরু হয়। মঙ্গলবারের ঘটনায় সেই মুচলেকার কপিসহ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন সরদার বলেন, “তারা আমাকে আগে মেরেছে, তাই আমি মেরেছি। আমার লোকজন দুই-একটা বাড়ি দিয়েছে, এটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু চাঁদা ও আংটি নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ধরনের রাজনীতি করি না।”

এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, “ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন