গুজব ছড়িয়ে ভোলাহাটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ১২

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬; সময়: ৬:২৫ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

এম এস আই শরীফ, ভোলাহাট : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আসাদুল ইসলাম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

গত শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনায় আহত দেলোয়ার হোসেন স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রশিদ ও বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন আলী গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি আব্দুর রশিদকে ঢাকায় মারধরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে শুক্রবার সকালে আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষের কয়েকজন আহত হন।

এরপর আহত দুজন মারা গেছেন- এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জনতা আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের মতে, আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বাধার মুখে পড়েন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতদের উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মোট ১২ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুরুতর আহত আসাদুল ইসলামকে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহত দুই ব্যক্তি মারা গেছেন- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত লোকজন কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো. হাসান তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার অগ্রগতি তদারকি করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখায় অনেক নিরীহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে ঘটনার পর কয়েকদিন গ্রামে পুরুষশূন্য পরিবেশ দেখা গেছে।

তবে স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, তদন্তের স্বার্থে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হলেও নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন