পাবনায় বিএনপি নেতার পিটুনিতে কৃষক নিহত

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬; সময়: ৫:৫৬ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ধান মাড়াইয়ের কাজকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের কয়েক ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত জামিল হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।

নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদেরের দাবি, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজে যেতে বলেন। কিছুটা দেরি হবে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের হেল্ডল নিয়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইতে গেলে সেই হেন্ডেল দিয়ে জামিল হোসেনকে মারধর করা হয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়।

আব্দুল কাদের আরও জানান, জামিল হোসেন পরে প্রায় তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা বাসায় ফিরে আসেন। অসুস্থ বোধ করায় তিনি পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তার অভিযোগ, মারধরের কারণে তার শশুরের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ত্যাগের জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না।”

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণেও এ ধরনের আঘাত লাগতে পারে। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কৃষকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন