বেলকুচিতে চাঞ্চল্য, পা ধরে ক্ষমার পর মুক্তিপণ আদায়

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৩; সময়: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ |
বেলকুচিতে চাঞ্চল্য, পা ধরে ক্ষমার পর মুক্তিপণ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা যুবককে আক্রোশের শিকার হয়েছে। পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয়েছে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের সমর্থক মোতালেব সরকারের কাছ থেকে। শুধু পা ধরিয়েই ক্ষান্ত হননি, এ দৃশ্য ভিডিও ধারনের পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছে মোতালেব বাহিনী। আদায় করা হয়েছে মুক্তিপনও। স্থানীয় পত্রিকা এজেন্ট দৌলত মন্ডলের পরিবারের উপর এমন অত্যাচারের ঘটনায় উপজেলা জুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (২ জুন) রাতে এ বিষয়ে বেলকুচি থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী যুবকের ভাই নাবিন মন্ডল। তবে এখন পর্যন্ত এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। ভুক্তভোগী যুবক আব্দুল মমিন (৩৫) উপজেলার চরচালা গ্রামের দৌলত মন্ডলের ছেলে।

নাবিন মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ মে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে দু’গ্রুপের হাতাহাতি সময় ঘটনাস্থলের পাশে ছিলেন আমার ভাই আব্দুল মমিন। রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও ঘটনার পর থেকে মোতালেব সরকার, আবু তালেব সরকার, রানা, রিজন, রিফাতসহ এমপির ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এ অবস্থায় গত ২৯ মে রাত ৯টায় মোতালেবের সহযোগী রানা, রিজন, রিফাত এবং হোসেন আলী তাদের বাড়ি গিয়ে মমিনকে খোঁজ করে। এক পর্যায়ে কৌশলে আমার বাবা দৌলত মন্ডল ও বড় ভাই মমিনকে ডেকে রাস্তার পাশে আমাদের পত্রিকা দোকানে নিয়ে যায়। দোকানের সামনে আসার পর হোসেন আলী হাসান আমার বাবার কোমরে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুজনকে মোটর সাইকেল উঠিয়ে সুবর্ণসাড়া তেলপাম্পের নিচে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের দুজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিত্যক্ত একটি নির্জন ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করে।

মোতালেব মমিনের কোমরে পিস্তল ঠেকাইয়া বলে তোদের বাপ-বেটাকে গুলি করে মারলে ঠেকাবে কোন বাবা। এক পর্যায়ে মোতালেব সরকার দৌলত মন্ডলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক লাখ টাকা ‍মুক্তিপণ দাবী করে। এ সময় মোতালেব আমার ভাই মমিনকে তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে এবং নিজ মোবাইলে ক্ষমা চাওয়া ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। প্রাণ বাঁচাতে আমার বাবা আমাদের সাথে মুক্তিপণের টাকার জন্য যোগাযোগ করেন। আমরা এক লাখ টাকা যোগাড় করে আমার চাচা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে মোতালেবের হাতে দিয়ে বাবা ও ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

পরদিন থেকেই ওই ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় মোতালেব বাহিনীর সদস্যরা।

বেলকুচির পত্রিকার এজেন্ট দৌলত মন্ডল বলেন, মোতালেব সরকার এমপি আব্দুল মমিন মন্ডলের ক্যাডার। তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিপনকে হাতুড়ি পেটা করাসহ একাধিক মামলাও রয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোতালেব সরকার বলেন, ১৩ মে মেয়র রেজা গ্রুপের সাথে সংঘর্ষের সময় দৌলত মন্ডলের ছেলে মমিন আমাকে পেছন থেকে ধরে রেখেছিল। যদিও ওই ছেলে রাজনীতির সাথে জড়িত না। এ বিষয়ে ২৯ মে তার বাবাকে সাথে নিয়ে আমার কাছে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, নাবিন মন্ডলের একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্তের পর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে