মেয়রের বাড়ির পাশেই মশার ‘চাষ’

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৩; সময়: ১০:৩৬ am | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনে বসবাস করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। ডিএনসিসির এক নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কের পাশের ড্রেনেই মশার ‘চাষ’ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ড্রেনে ঠিকমতো পানি প্রবাহ না হওয়ায় পানি জমে থাকছে, আর সেই পানিতেই জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরই ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।

গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ড্রেনের ওপর স্থাপিত কংক্রিটের স্লাবের ফাঁকে জমে আছে নোংরা পানি। শুধু ড্রেনের ফাঁকেই নয়, ড্রেনের পাশে জমা পানিতে গিজগিজ করছে লার্ভা ও মশা। এদের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

ডিএনসিসির মাসব্যাপী এডিসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নিয়মিত মশা মারার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নেওয়া হচ্ছে না ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের কেন্দ্রীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জিআরএস ও ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। শুধু লার্ভিসাইডিং বা মশা মারাই নয়, এলাকাবাসীর চাওয়া যত দ্রুত সম্ভব ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে মশা জন্মানোর পথ বন্ধ করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা ডা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, মশা মারতে নিয়মিত স্প্রে ও ফগিং করছেন সিটি করপোরেশনের মশক কর্মীরা। তবে সড়কের পাশে ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে। সেখানে এডিসের লার্ভা দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড-১-এর সচিব বিকেএম নাছিম বলেন, ডিএনসিসির মাসব্যাপী এডিসবিরোধী অভিযানে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এক দিন পরপর লার্ভিসাইডিং এবং ফগিংও করা হচ্ছে। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ড্রেনের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কমিশনারের নির্দেশে দ্রুতই এটি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক মোহাম্মদ রবিউল জানান, তারা ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করছেন। তবে ভাঙা স্লাব পরিষ্কারের দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের। রোববারের মধ্যেই ড্রেন পরিষ্কারের কাজটি শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, আমরা তো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুতই প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা: ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই খোদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দুটি ভবনে মিলেছে এডিসের লার্ভা। গতকাল রাজধানীর গাবতলীতে ডিএনসিসির ক্লিনার্স পল্লি আবাসনের নির্মাণাধীন দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এজন্য ভবন নির্মাণকারী দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসিসি জানিয়েছে, এডিস মশা নিধনে পরিচালিত নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার গাবতলী বেড়িবাঁধ রোডে ডিএনসিসির ক্লিনার্স পল্লি আবাসনে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান। এ সময় নির্মাণাধীন দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্স এবং মাইশা কনস্ট্রাকশনকে ২ লাখ করে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি।

এ ছাড়া দারুস সালাম রোডে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় বঙ্গ বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিন ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন অভিযানে ১৪টি মামলায় মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে কামরাঙ্গীরচর মাহাদীনগর এলাকায় ৩৭ বাড়ি পরিদর্শন করে দুটি নির্মাণাধীন বাড়িতে লার্ভা পাওয়ায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকন্দ ফয়সাল উদ্দীন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন