রাবির ১৩১ শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত, একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪; সময়: ৮:১৪ অপরাহ্ণ |
রাবির ১৩১ শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত, একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ মৃধা নামের শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মৃত মো. মুরাদ মৃধা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায়। মুরাদ রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে ছাত্রাবাসে থাকতেন।

জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকেই রাবিতে জন্ডিসের প্রকোপ দেখা দেয়। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৩১ শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে রাবি মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা গেছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহমেদ বলেন, হাসপাতালের নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত মুরাদ কিডনি বিকল হয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে মারা যান।

তিনি বলেন, তার মৃত্যুর কারণ জন্ডিস ও একিউট কিডনি ইনজুরি বা একেআই। কিডনিতে সরাসরি আঘাত নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে এই ইনজুরি হতে পারে। মুরাদ গত ২৫ জানুয়ারি জন্ডিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।

তবে রাবি কর্তৃপক্ষ মুরাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানাতে পারেনি। রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম বলেন, আমি তার (মুরাদের) মৃত্যুর কারণ জানি না। তবে তার বিভাগের চেয়ারম্যান এবং একজন সহকারী প্রক্টর আমাকে ডেঙ্গুতে তার মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, মুরাদ ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়নি। তার ডেঙ্গু ধরাও পড়েনি। হেপাটাইটিস ও কিডনি ফেল দুইটি রোগ ছিল এক সঙ্গে। হেপাটাইটিসের সঙ্গে জন্ডিজ থাকে। হেপাটাইটিস ও কিডনি সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস নিয়ে প্রথমে লিভার ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা দেয়ার পর দেখা গেছে তার কিডনিতে সমস্যা আছে। ওইখান থেকে তাকে কিডনি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়।

মৃত মুরাদের রুমমেট আবু নাইম খান বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি ছাত্রাবাসের খাবার বন্ধ হয়ে যায়। এর পর মুরাদ শাহ মখদুম হলে খাওয়া শুরু করে। পরে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তার জ্বর এলে সে বাড়ি চলে যায়।

মুরাদের বাবা আবদুস সাত্তার মৃধা বলেন, মুরাদ বাসায় আসার দুইদিন পর জ্বর আরও বাড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, তিন দিন পর মুরাদের ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও, শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরে ২৫ জানুয়ারি তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে