হরিণ শাবকের সঙ্গে বনকর্মীর মিতালী

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৪; সময়: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ |
হরিণ শাবকের সঙ্গে বনকর্মীর মিতালী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক :  হরিণ এমন এক প্রাণী যা মানুষের কোলাহল ও নাগালের বাইরে থাকতেই পছন্দ করে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে ভোলার তজুমদ্দিনে। হরিণ শাবকের সঙ্গে চলছে বনকর্মীর গভীর এক মিতালী। মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে হরিণ শাবক ও বনকর্মী। এই বন্ধন যেন ছিন্ন হওয়ার নয়। তবুও তো ছেড়ে যেতে হয়, যেতে হবে, থেকে যাবে এক অনবদ্য প্রেম।

বনকর্মী নুরুল্লাহকে ছেড়ে কোথাও যায় না হরিণটি। দিনরাত একসঙ্গে কাটছে তাদের। খাওয়া-ঘুমানো, চলাফেরা সবই এক সঙ্গে। নুরুল্লাহ পাশে থাকলে কোনো কিছুইতে ভয় পায় না শাবকটি। ছুটে চলে হাট-বাজার সর্বত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মেঘনার মধ্যবর্তী চরমোজাম্মেলের লোকালয়ের কাছাকাছি জন্ম হয় এই হরিণ শাবটির। জম্মের পর পর ওই স্থানে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে মা হরিণটি শাবক রেখে বনে চলে যায়। সদ্য ভূমিষ্ট হওয়ায় হরিণ শাবকটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

একদিনের শাবকটি লালন পালনের দায়িত্ব পান বনকর্মী নুরুল্লাহ। মাতৃহীন এ হরিণকে আদর-যত্ন দিয়ে বড় করেন তিনি।

মুমূর্ষু অবস্থায় আনা সেই শাবকটির এখন (২৮ জুন) তিন মাসের বেশি বয়স। প্রথমে দেড় থেকে দুই কেজি করে দুধ খাওয়ানো হতো। পরে দুধ ও ঘাসের পাশাপাশি মানুষের খাবারেও অভ্যস্ত হয় হরিণটি।

ভাত, ভাতের মার, শাক সবজির পাশাপাশি চাও পান করে এই হরিণ শাবক। ঘরের খাবারের পাশাপাশি এখন রাতের আঁধারে পাশের বনে গিয়ে ঘাস-লতাপাতাও খায়। সন্ধ্যার পর বের হয়ে নুরুল্লাহর ঘুমানোর আগেই ঘরে চলে আসে।

তজুমদ্দিন বাজারের বনবিভাগের অফিসেই বসবাস নুরুল্লাহর ও হরিণ শাবকের। তবে মানুষের কোলাহল বেশি হলে তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

নুরুল্লাহ জানান, হরিণ বন্য প্রাণি হলেও এ শাবকটি তার সঙ্গেই থাকে। রাতে একই রুমে ঘুমায়। সকালে একসঙ্গেই জাগে তারা। সারাদিন নুরুল্লাহর পিছনে ছুটে চলাই তার কাজ। লোকালয়ে চলতে চলতে ভয় অনেকটা কমে গেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা-কমচারীদের কাছে নির্ভয়ে গেলেও অপরিচিত মানুষ দেখলে কিছুটা ভয়ে থাকে।

জন্মের পর থেকে প্রথম দুই মাস শাবটিকে ১৮ হাজার টাকার দুধ খাইয়েছে নুরুল্লাহ। করিয়েছেন নিয়মিত চিকিৎসা। এতে তজুমদ্দিনের বিট কর্মকর্তা ও বনবিভাগের অন্যান্য কর্মচারীরাও নুরুল্লাহকে সহযোগিতা করেন।

লালন-পালন করতে করতে শাবকটির মায়ার জালে আটকে গেছে নুরুল্লাহ। বড় হয়েছে হরিণটি। এখন তাকে বনে উন্মুক্ত করতে হবে নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু যেই মায়ার জালে প্রাণিটি আবদ্ধ হয়েছে তাতে বনে যেতে চাইবে না এমন বিশ্বাস নুরুল্লাহর। তারপরও মায়া ত্যাগ করে বনে উন্মুক্ত করার জন্য প্রস্তুতি চলছে নুরুল্লাহর।

নুরুল্লাহ বন বিভাগের আউটসোর্সিংয়ের কর্মী হিসেবে চাকরি করছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে