ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’-কাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ও কেন?

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সম্প্রতি ভারত জুড়ে বিশেষ করে গুজরাত ও রাজস্থানে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সন্দেহে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সীমান্তে ‘পুশ-ব্যাক’ বা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ভারতে যেটিকে বলা হচ্ছে ‘পুশ-ব্যাক’, বাংলাদেশ সরকারের চোখে সেটি ‘পুশ-ইন’। তবে এই পদ্ধতির কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই ভারতে, এবং কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকারও করছে না।
পুশ-ব্যাক কী?
পুশ-ব্যাক বা পুশ-ইন হলো একটি অঘোষিত পদ্ধতি, যেখানে সন্দেহভাজন বিদেশিদের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়া হয়। ভারতের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এটি পুরোপুরি আইনবহির্ভূত। তবে, পাচারের শিকার নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো মানবিক বিবেচনায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।
কারা পুশ-ব্যাকের শিকার হচ্ছেন?
গত কয়েক সপ্তাহে শুধুমাত্র গুজরাত ও রাজস্থানে ১,০০০’র বেশি মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
এদের মধ্যে অনেকে গুজরাত থেকে ত্রিপুরার আগরতলায় বিশেষ বিমানে করে পাঠানো হয়েছে, পরে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তেও সম্প্রতি এমন পুশ-ব্যাকের চেষ্টা হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্য যেমন ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ থেকেও বাংলাদেশি সন্দেহে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে।
ভারতের আইন কী বলে?
বিদেশিদের বিষয়ে ভারতের আইন অনুযায়ী:
আটক করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই আসলে, বিদেশি আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হয়।
দোষী প্রমাণিত হলে সাজা ভোগ করে তারপর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর প্রধান কিরীটী রায় বলেন:
ভারতের মাটিতে থাকাকালীন বিদেশিদেরও সংবিধান অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার প্রাপ্য। অথচ বাস্তবে এসব অধিকার মানা হচ্ছে না।
আইনি প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হচ্ছে না?
গুজরাত ও রাজস্থানের অনেক ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহভাজনকে আদালতে তোলার পরিবর্তে সরাসরি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, মামলা চালালে সময়, অর্থ ও জায়গা-সব দিক থেকেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
একবার মামলা হলে সাজা, ডিটেনশন এবং ফেরত পাঠানো পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
বিএসএফ ও স্থানীয় প্রশাসন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে যেসব ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ধরা পড়ছে, তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েই এই অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা
যদিও পুলিশ বলছে “বাংলাদেশি নাগরিকদেরই দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে”, মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, কারো পরিচয় নিশ্চিত না করে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে ফেরত পাঠানো বা সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই বৈধ নয়।




