মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬; সময়: ৬:১৫ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে তাঁর নিজ জেলা ভোলায় দাফন করা হয়েছে। সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে মা-বাবা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

সকালে থেকেই কোড়ালিয়া গ্রামে দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিজ বাড়ির সামনে কবর খননসহ প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে গ্রামজুড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুরো এলাকায় বিরাজ করে শোকাবহ পরিবেশ।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় আনা হয়। পরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা। মরদেহ সেখানে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

তবে জানাজাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী বিক্ষোভ করে জানাজার স্থান পরিবর্তনের দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মাঠে স্থাপিত শামিয়ানা ও বাঁশ অপসারণের আহ্বান জানান। পরে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ (ট্রুম্যান), নির্বাহী সদস্য ইয়ারুল আলম (লিটন)সহ দলের নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ ভোলায় পৌঁছায়। গার্ড অব অনার শেষে বেলা ২টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর জন্মস্থান দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম নবি আলমগীরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় কোড়ালিয়া গ্রামের বাড়ির সামনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ও শেষ জানাজা। পরে বিকেল ৫টার দিকে মা-বাবা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন