রাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা

ইবতেসাম শান্ত, রাবি : ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি দেখা দিয়েছে কিছু শঙ্কাও।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাকসু শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর, প্রতিনিধিত্ব এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মঞ্চ। তবে তারা চান এই নির্বাচন হোক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। যাতে প্রকৃত অর্থেই তাদের প্রতিনিধিরা উঠে আসতে পারেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম ইসলাম বলেন, “নেতৃত্বে যদি একাডেমিক ও নৈতিক যোগ্যতা না থাকে, তাহলে রাকসু থেকেও কিছু আশা করা যায় না। আমরা চাই এমন প্রতিনিধি, যিনি আমাদের কথা প্রশাসনের কাছে বলবেন, মিডিয়ায় তুলে ধরবেন।”
অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই রয়েছে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা। তারা শঙ্কিত, রাকসু আবারো কোনো বিশেষ দলের কর্তৃত্বের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে কি না।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই রাকসু ফিরে আসুক। কিন্তু আবার সেই দখলদার রাজনীতি, অস্ত্রের ঝনঝনানি বা সহিংসতা যেন না হয়।”
তবে এর পাশাপাশি অনেকে এটিকে দেখছেন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে। চারুকলার অনুষদের তানভির বলেন, “যদি সত্যিকারের প্রতিনিধি আসে, তাহলে আবাসন, খাদ্য, নিরাপত্তা, পরিবহন—সব সমস্যার সমাধানে রাকসু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের কথা বলার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থী তাসরিফ আহমেদ বলেন, “এতদিন আমাদের কোনো সাংগঠনিক কণ্ঠ ছিল না। সব কিছুতে ব্যক্তিগতভাবে লড়তে হতো। রাকসু ফিরলে আমরা অন্তত জানবো—আমাদের হয়ে কেউ কথা বলছে।”
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রার্থীদের দায়িত্ব নিতে হবে স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রচর্চার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। নয়তো আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “এবারের রাকসু নির্বাচন কমিশন একটি কঠিন কমিশন। আমরা কারো দ্বারা প্রভাবিত হবো না। সবাই আমাদের কাছে দুর্বল থাকবে। এটা শেখ হাসিনার নির্বাচন নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাকসু নির্বাচনের আয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মনোনয়ন জমা, প্রচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।




