দুর্গাপুরের কাঁচুপাড়া স্কুলে শিক্ষকদের বেতন স্থগিতের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অসত্য তথ্য প্রদানের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বুধবার এ আবেদন দাখিল করেন।
তিনি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে বলা হয়, কথিত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং চূড়ান্ত ফলাফলের নথিতে জালিয়াতি করে একাধিকবার এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য হুমকি হতে পারে।
এছাড়া, নিয়োগের বৈধতা আদালতে বিচারাধীন থাকায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের অনুকূলে চূড়ান্ত আদেশ না থাকায় মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেতন-ভাতা প্রদানকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে দাবি করেন আবেদনকারী।
প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্যদের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও আর সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে জাল নথি ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহা. আব্দুর রশিদ বলেন, “আমি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি তদন্তে আছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করেছেন। তাকে বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে বলেছি। অফিসে অভিযোগপত্র দেখে বিস্তারিত জানাতে পারব।”




