নওগাঁর ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া কালী মন্দিরের ২০০ বছরের ঐতিহ্য হারানোর পথে

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২৫; সময়: ৭:৩০ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় শত শত বিঘা সম্পত্তি ও পুকুর থাকা সত্ত্বেও বেদখল ও ভূমি দস্যুর দখলে ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া ষ্টেটের কালিমন্দিরের ২০০ বছরের ঐতিহ্য আজ সংকটে পড়েছে। নিয়মিত পূজা অর্চনা, স্থানীয় মন্দির ও মসজিদ উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রমসহ পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে চালানো দেবসেবা পরিচালনা করতে পারছেন না জমিদার পরিবারের উত্তরসূরী অশোক রায় বাপ্পি।

ঠাকুর মান্দা রাজখাড়া জমিদার বাড়ীর কালিমন্দিরের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কালিপূজার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ও শ্রীশ্রী শরৎকালী ঠাকুরানীর দেবোত্তর স্টেট কসবা মান্দা, জেলা নওগাঁ কর্তৃক আয়োজনকৃত ২০০ বছরের জন্মতিথি উপলক্ষে বিশেষ কালী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৪৯ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রাক্তন জমিদার কালিপদ রায় ও দেবীপদ রায় ২৫০/৭৫ মামলার মাধ্যমে রাজশাহী কালেক্টরের নিকট দাবি জানান। পরবর্তীতে মান্দা ও নিয়ামতপুরের ৩৪৭.৬৬ একর সম্পত্তি শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ঠাকুরানীর পক্ষে বরাদ্দ করা হয়। সেবাইতগণ খাজনা খারিজসহ দেবসেবা পরিচালনা করে আসছেন। ২০০৬ সালে বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী উক্ত আপিল বাতিল করে পুনরায় রাজখাড়া দেবতর স্টেটের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

কিন্তু বিগত বছর ধরে এবং বর্তমানে সম্পত্তি ভূমিদস্যুর দখলে থাকায় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অশোক রায় সরকারকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, অবিলম্বে রাজখাড়া ষ্টেটের সম্পত্তি অবৈধ দুষ্কৃতিদের হাত থেকে উদ্ধার করে দেবসেবা চালানোর এবং মসজিদ, মন্দির ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকারের আমলে যেমন দলীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের সম্পত্তি দখল করেছিল, তেমনি বর্তমানে অন্য দলের লোকেরা জবরদখল করছে। সরকার বাহাদুরের কাছে আকুল আবেদন আমাদের রাজখাড়া ষ্টেটের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন