জাতির ইতিহাস ও মর্যাদাবোধের প্রতি অসম্মান

ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা একটি জাতির সভ্যতা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬; সময়: ১১:৩৮ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ব্যানার টানিয়ে প্রতীকীভাবে ‘পাবলিক টয়লেট’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

এম বদরুল হাসান: সম্মান মানুষের অন্যতম বড় মানবিক গুণ। সমাজে মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে প্রথমেই অন্যকে সম্মান করতে জানতে হয়। কারণ সম্মান কখনো একমুখী নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যে ব্যক্তি অন্যকে অবজ্ঞা করে, অপমান করে বা ছোট করে দেখে, সে শেষ পর্যন্ত নিজের সম্মানও হারায়। সমাজ মানুষকে তার আচরণ দিয়েই মূল্যায়ন করে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেই এই সত্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যদি কোনো নেতা তার কর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দেন, তবে হয়তো পদমর্যাদার কারণে শুরুতে তিনি সম্মান পেতে পারেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। রাজনৈতিক পরিবেশও হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। অন্যদিকে, একজন নেতা যদি কর্মীদের মতামতকে মূল্য দেন, তাদের প্রতি সৌজন্য ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখেন, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সবার সম্মান অর্জন করেন। এতে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়।

পারিবারিক জীবনেও সম্মানের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে, বড়দের মর্যাদা দেয়, সমাজেও সে সম্মান পায়। একইভাবে যে ব্যক্তি সমাজের অন্যদের মর্যাদা দেয়, মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং মানবিক আচরণ করে, সমাজও তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে। অর্থাৎ সম্মান পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো অন্যকে সম্মান করা।

এই বাস্তবতার আলোকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজশাহীর একটি ঘটনা আবারও অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। রাজশাহীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িয়ে একটি পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি অনেকের কাছে শুধু অরুচিকরই নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও মর্যাদাবোধের প্রতি অসম্মান বলেও বিবেচিত হয়েছে।

মার্চ মাস বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক আহ্বানে বাঙালি এক কাতারে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই জাগরণের মাসেই এমন একটি ঘটনার খবর মানুষের মনে কষ্ট ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা একটি জাতির সভ্যতা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ইতিহাস, মর্যাদা এবং শ্রদ্ধাবোধ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্মানবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যকে সম্মান করতে জানলে তবেই নিজের সম্মান রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতিও যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে। কারণ সম্মানই শেষ পর্যন্ত মানুষ ও জাতির প্রকৃত পরিচয় গড়ে দেয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন