ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি: বগুড়ার সেই ওসি কারাগারে

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬; সময়: ১২:৪১ am | 
খবর > আইন-আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: বগুড়ায় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শাজাহানপুর থানার সাবেক ওসি আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শাজাহানপুর আমলি আদালত) আবু হেনা সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে হাজির হয়ে আলমগীর হোসেন জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আলমগীর হোসেনকে পুলিশের চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, সাবেক ওসি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় আদালত আগে সমন জারি করে তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী সোমবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সহপ্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খড়না ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন ফজলুল হক (উজ্জ্বল)। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ট্রাক পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগে বলা হয়, তাঁর নামে থানায় কোনো মামলা না থাকলেও তৎকালীন শাজাহানপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ফজলুল হককে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং ক্রসফায়ার ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। পরে তিন লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। তবে টাকা নেওয়ার পরও একটি পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক আদালতে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

ফজলুল হক বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর চাঁদা হিসেবে নেওয়া তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলমগীর হোসেন বিভিন্নভাবে টালবাহানা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করি।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন