আসমা ধর্ষণ-হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

চার বছর পর রায়; এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ন্যায়বিচারে স্বস্তি পরিবারের

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬; সময়: ৪:০৩ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি ও তার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেনের (২৬) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নোয়াখালীর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যরা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং সম্পর্কে শিশুটির চাচাতো ভাই।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। নিখোঁজের নয় দিন পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত জানান, ঘটনার দিন তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে অপরাধের আলামত গোপন করতে মরদেহটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

ঘটনার পর নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আসমা হত্যার বিচার এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চার বছর পর আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন