শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬; সময়: ২:৩১ am | 
খবর > জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে রাকিবুল ইসলাম (২৭) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জি এম ইশান জানান, রাতে কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা। হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিবুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বন্ধু মো. রনি বলেন, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক যুবক রাকিবকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন রাকিব মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও ছিল। পরে উপস্থিত লোকজন একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহত রাকিবুল ইসলাম শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রাকিব আহম্মেদ’ নামে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার প্রায় আট লাখ অনুসারী রয়েছে।

রাকিবুল ইসলামের বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী এলাকায়। তবে রাকিব কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. মিঠু ফকির জানান, গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাকিব নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন