জুলাইযোদ্ধাদের নামের রাজশাহীতে প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬; সময়: ৬:০৩ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনের অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে পরে সাংবাদিকরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী সরকার পতনের আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে আহত ৩২ জনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ সংগঠনটি। বর্তমানে তারা প্রেসক্লাব ভবনে নিজেদের কার্যালয় স্থাপন করতে চাইছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ী। শুরুতে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চললেও ২০০৯ সালে ডাইংপাড়া মোড়ে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠিত হয়ে সভাপতি হন সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক জামিল আহমেদ।

জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগ, পূর্বের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রেসক্লাবটি দখলের চেষ্টা চলছিল। নতুন কমিটি গঠনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রেসক্লাবের ব্যানারে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অভিযোগ দেওয়ার পরপরই প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মো. মুরশালিন বলেন, “ওখানে আগে আওয়ামী লীগের লোকজন ছিল। ৫ আগস্টের পর বন্ধ ছিল। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। ইউএনও যেটা সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই মেনে নেব।”

সংগঠনের সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, “জুলাইয়ের আহতদের নিয়ে সংগঠন করা হয়েছে। আগেও প্রেসক্লাবটি অফিস হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব ছিল, তবে আমি সমর্থন করিনি। তালা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না।”

প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কষ্ট করে এই প্রেসক্লাব গড়ে তুলেছি। আপত্তিকর ব্যক্তিদের বাদ দিয়েই নতুন কমিটি করা হয়েছে। তারপরও দখলের চেষ্টা দুঃখজনক। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, তালা দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “দখলের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তালা দেওয়া হয়েছিল, পরে সাংবাদিকরা ভেঙে ঢুকেছেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন