রাজশাহীতে হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সংক্রামক রোগ হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শুধু এই এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১২ জন। আর ছাড়পাত্র পেয়েছে ১৩ জন। এখন হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৩৫২ জন রোগী ভর্তি আছে।
রাজশাহী বিভাগের ২৬টি এলাকা থেকে সংক্রামক রোগ হাম ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬ মাসের নিচে। তবে শুধু শিশুরাই নয়, আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে হামের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে টিকা প্রয়োগ।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে ৫২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এতে ১৪৩ জনের হাম পজিটিভ রিপোর্ট হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। হাম পজিটিভ কিংবা উপসর্গ নিয়ে এ বিভাগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২৯ জন।
যেসব এলাকায় হাম পজিটিভ একাধিক রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সে এলাকাগুলোতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে বলে ধরে নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজশাহী বিভাগে এ রকম ২৬টি এলাকা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পাবনায় সর্বোচ্চ ১০টি এলাকা থেকে হাম ছড়াচ্ছে। এরপর রাজশাহীর ছয়টি এলাকা থেকে হাম ছড়াচ্ছে। এরমধ্যে রাজশাহী মহানগরের ভেতরই পাঁচটি এলাকা। এর বাইরে নওগাঁর পাঁচ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন এবং নাটোর ও সিরাজগঞ্জের একটি এলাকা থেকে হাম ছড়াচ্ছে। প্রাদুর্ভাবের এই এলাকা আরও বাড়তে পারে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যে সমস্ত এলাকায় একাধিক রোগী পাওয়া গেছে সেগুলোতে আউটব্রেক হয়েছে বলে আমরা ধরে নিচ্ছি। সেসব এলাকায় টিকা প্রয়োগে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।’




