আদালতে শিরীন শারমিনের ২০ মিনিট

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬; সময়: ১২:০৭ am | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড ও জামিন- উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ২০ মিনিটের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দুপুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে পুরান ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁকে হাজতখানায় রাখা হয় এবং বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আদালতকক্ষ তখন আইনজীবী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে বলেন, আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী’ ছিলেন এবং আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে বলেন, মামলার এজাহারে তাঁর নাম উল্লেখ ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা আরও বলেন, ঘটনার সময় শিরীন শারমিন সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ পদে ছিলেন এবং তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে এবং একই সঙ্গে জামিন আবেদনও নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত প্রাঙ্গণে এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা স্লোগান দিলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সিঁড়িতে শিরীন শারমিন ভারসাম্য হারান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি পড়ে যাননি; শেষ ধাপে এসে পা বেঁকে গেলে নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে রাখেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলনকারী আশরাফুল ফাহিম গুরুতর আহত হন।

২০২৫ সালের ১৭ জুলাই দায়ের করা এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয় এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তৃতীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা ও নির্দেশনার অংশ হিসেবে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তিনি সপরিবারে সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন