রাজশাহী মেডিকেলে হামের পর ডেঙ্গু ধরা পড়া শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬; সময়: ৯:২১ pm | 
খবর > লিড

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এটি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর প্রথম ঘটনা।

তবে শিশুটির পরিবার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। বাবার দাবি, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষায় ডেঙ্গু নেগেটিভ আসে। তার ভাষায়, ভুল চিকিৎসার কারণেই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেছিলেন, সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

নিহত শিশুর নাম তাইবা। সে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। পেশায় কৃষক জাহিদুল ইসলাম অন্যের জমিতে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, হামের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গত ২৯ মে রাতে শিশুটিকে আবার রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানেই তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি ঘটে। জ্বরসহ নানা জটিলতা দেখা দিলে বৃহস্পতিবার পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র প্রদান করে।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “কুষ্টিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় মেয়েকে রাজশাহীতে এনেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে আমার একমাত্র সন্তানকে হারালাম। গতকাল রাতেও রক্তের জন্য হাসপাতাল চত্বরে ছুটে বেড়িয়েছি। আমার ভাই এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছে, তবুও মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না।”

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। সেখানে হামের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় সে। পরবর্তীতে আবার জ্বর-কাশি দেখা দিলে বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, পরীক্ষায় শিশুটির ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা নেগেটিভ হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন না থাকায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে হঠাৎ অবস্থার অবনতি কেন হলো, তা স্পষ্ট নয়। পুনরায় আইসিইউতে নেওয়ার পর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন