বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে, যেগুলোর বাড়ার আশঙ্কা

বাজেটে ৬০ নিত্যপণ্যে করছাড়সহ আরও যেসব সুখবর আসছে

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬; সময়: ৯:০৫ am | 
খবর > অর্থনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়াতে এবারের বাজেটে চাল-ডালসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

নিত্যপণ্যে স্বস্তির আভাস

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি কিছু পণ্যের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কমতে পারে ফ্রিজ-এসির দাম

দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ওয়াশিং মেশিন, ডিশওয়াশার, গিজার, ব্লেন্ডার ও জুসারের কর সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।

শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া খেজুর আমদানির ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।

স্বর্ণ ও প্রসাধনীতে মিলতে পারে স্বস্তি

স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া লিপস্টিক, লোশন, ফেসক্রিম ও ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য কমানোর প্রস্তাব থাকায় এসব পণ্যের দামও কমতে পারে।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া এ খাতে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ আগাম করও প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।

এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড তৈরির কাঁচামালের ওপর আগাম কর কমানোর পাশাপাশি ১১৩টি পণ্যের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ইলেকট্রিক গাড়িতে বাড়তি সুবিধা

পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানির উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদন শিল্পে কর রেয়াতের সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়

ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামালের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির ৯টি কাঁচামালে কর রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হলে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে। এছাড়া হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাটও প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।

সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয় ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি, মনিটর ও পোর্টেবল ডাটা প্রসেসিং মেশিন আমদানির আগাম করও কমানো হতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে নতুন বাজেটে রড, সিগারেট ও মদের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন