ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় ৬০ বাংলাদেশি

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬; সময়: ১:৪৩ pm | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থা ইন্টারপোল। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন ৬০ জন বাংলাদেশি। বিশ্বব্যাপী এ তালিকায় মোট ৬ হাজার ৪৪৪ জন পলাতক ও ওয়ান্টেড ব্যক্তির নাম রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত আসামির সংখ্যা প্রকাশিত ওয়ান্টেড তালিকার চেয়ে বেশি। নিরাপত্তাজনিত কারণে সব রেড নোটিশধারীর নাম প্রকাশ করে না সংস্থাটি। তবে রেড নোটিশের তথ্য সদস্যভুক্ত দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হলেও তার নাম প্রকাশ্য ওয়ান্টেড তালিকায় নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা যাতে সহজে গা-ঢাকা দিতে না পারে, সে কারণেই অনেক ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ করা হয় না।

প্রকাশিত তালিকায় থাকা ৬০ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে হত্যা, মানব পাচার, জালিয়াতি, অস্ত্র, মুদ্রা জালিয়াতি, চোরাচালান, যৌন নির্যাতন ও অর্থ আত্মসাতের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।

বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে খোঁজা বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের রাজু ঢালী, ঢাকার মো. মিলন, লিটন ব্যাপারী, নোয়াখালীর মিজান মিয়া, খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিকুল ইসলাম, নাটোরের সিরাজ মোস্তফা, ফেনীর আলা উদ্দিন, হানিফ, জাহিদুল ইসলাম এবং ফজলুল আমীন জাভেদ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোল যাদের খুঁজছে তাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক হত্যা মামলার আসামি, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য, অস্ত্র ও জালিয়াতি মামলার অভিযুক্ত এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, গাজীপুরের নুরুল দীপু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, খুলনার শরীফুল হোসাইন, নেত্রকোনার আব্দুল জাব্বার, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, মুন্সীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান এবং গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়।

এছাড়া মানব পাচার, মুক্তিপণ আদায় ও হত্যার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল, মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলাম, পর্নোগ্রাফি মামলায় টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানের নামও রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের সদস্য বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থা বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে কাজ করে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন