রাজশাহীতে হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে, বিচার চান না বাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে মামলা দায়েরকারী নিহতের স্ত্রী পরিবানু বেগম জানিয়েছেন, তিনি আর এই মামলার বিচার চান না এবং মামলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন।
গত বছরের ৬ মার্চ আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাহত হন রিকশাচালক গোলাম হোসেন। পরে ১১ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৩ মার্চ বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী পরিবানু বেগম। মামলায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুর হক এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক।
পরিবানু বেগম জানান, মামলা দায়েরের পর নানা চাপ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে তিনি নগর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। সম্প্রতি রাজশাহীতে ফিরে একটি খাবারের হোটেলে কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “মামলা আর চালাব না। আসামিদের কেউ ধরা পড়েনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহরে থাকার সময় অচেনা লোকজন দিন-রাত বাড়িতে এসে মামলাটি নির্দিষ্টভাবে পরিচালনার জন্য চাপ দিত। এ কারণেই তিনি শহর ছেড়ে চলে যান। পরিবানুর দাবি, বিএনপি নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা করেন। মামলা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না জানতে চাওয়া হয়। তিনি মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত জানালে তাঁকে কিছু অর্থ দেওয়া হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার দুই আসামি সুমন সরদার ও ফাইজুর হক অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন জমা পড়েছে এবং অব্যাহতির জন্য উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী বলেন, “মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো যাবে।” আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আসামিদের পাওয়া যায় না।” সূত্র- আজকের পত্রিকা




