অক্টোবরে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা ভোটের প্রস্তুতি, ইভিএম থাকছে না

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছেও কোনো চিঠি আসেনি।
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, বর্ষা মৌসুম এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া আচরণবিধি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহার এবং ডাকযোগে ভোট (পোস্টাল ব্যালট) গ্রহণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহিংসতা রোধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।




