পুঠিয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাতের অভিযোগ , প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬; সময়: ৪:১৫ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাত, হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন এক ফুফু। তাদের অভিযোগ, মানিক নামের একজন ব্যক্তি ২০১৬ সালে সুফিয়া বেগমের কাছে হাফ কাটা জমি বিক্রি করলে সেই জমি রেজিস্ট্রিও করে নিয়েছেন সুফিয়া বেগম।

কিন্তু ২০২৩ সালে সুফিয়ার ভাই আলমের ছেলে সুজনের কাছে পুনরায় একই জমি বিক্রি করেন মানিক। সেই জমি নিয়েই ফুফু ভাতিজার মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। সেই হাফ কাটা জমি দখল নিয়েই সুফিয়া বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্র্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এমন অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা বানেশ্বর খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগি সুফিয়া বেগমের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার । শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় বানেশ্বর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া ও তার পুত্রবধু মুক্তি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুফিয়া বেগমের পক্ষে তার পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম বলেন, তার মা আগেই সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছেন। মায়ের নামে থাকা তিন কাঠা জমিই ছিল তার শেষ ভরসা। কিন্তু অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এবং আমি হাফ কাটা জমি মানিকের কাছ থেকে আগে কিনেছি জানার পরও সুজন সেই জমি আবার কিনে তিনিও রেজিষ্ট্রি করে নেন। এই জমিতে বরই এর কাটা রাখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি বলেন আমি আমার ক্রয়কৃত জমি ফেরত চাই। একই সঙ্গে আমার ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তি খাতুন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী সুফিয়ার ভাইয়ের ছেলে সুজন, তার স্ত্রী নুসরাত জাহান বিউটি ও ভাই আলমদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ১০ জুন তাদের বাড়িতে প্লাস্টারের কাজ চলছিল। এ সময় মিস্ত্রি জমির পাশের কাঁটা সরাতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মুক্তি খাতুনের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তার শাশুড়ি সুফিয়া বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মুক্তি খাতুনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। মুক্তি খাতুন বলেন, ঘটনার পর তারা পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে মিসকেস চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তি খাতুন বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটিও রয়েছেন। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি করেন হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উভয় পক্ষের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলমের ছেলে সুজন বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শালিশ হলে তারা মানতে নারাজ। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অস্তিত্ব হোল্ডিং রেকর্ডে নেই। তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করতে চাইছেন। সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত ও মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আগে কেউ জানায়নি। তবে দুই দিন আগে একটি বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে ওই সুফিয়া বেগম আমাকে বিষয়টি জানান।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হতে পারে। অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন