জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬; সময়: ৩:৪৩ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্ব জনসংখ্যা  দিবস উপলক্ষে দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর অদক্ষ ও অপরিকল্পিত জনসংখ্যা উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি জনসংখ্যার সংখ্যার ওপর নয়; বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে। তাই পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। তবে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা না গেলে এই সম্ভাবনাই ভবিষ্যতে বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন ও জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ও নারীর শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের পথ আরও সুদৃঢ় হয়।

তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মোট প্রজনন হার, বাল্যবিবাহ, অশিক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সরকারের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি স্বাস্থ্যখাতে তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন